ঢাকাMonday , 23 May 2022
  1. অন্যান্য
  2. অর্থ ও বানিজ্য
  3. আন্তর্জাতিক
  4. ক্রাইম নিউজ
  5. খেলাধুলা
  6. গণমাধ্যম
  7. জাতীয়
  8. বিনোদন
  9. বিভাগের খবর
  10. রাজনীতি
  11. সর্বশেষ সংবাদ
  12. সারা বাংলা

আমতলী-তালতলীতে সংস্কারের অভাবে ৪৩টি কমিউনিটি ক্লিনিকের বেহাল দশা

Barishal RUPANTOR
May 23, 2022 4:22 pm
Link Copied!

আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি: বরগুনার আমতলী-তালতলী উপজেলার ৪৬টি কমিউনিটি ক্লিনিকের ভবনের মধ্যে ৪৩টি ভবন দীর্ঘ দিন ধরে সংস্কার না হওয়ায় এখন বেহাল দশায় পরিনত হয়েছে। ভবন ধসসহ অধিকাংশ ভবনের দরজা জানালা খুলে গেছে, ছাদে ফাটল ধরেছে, পলেস্থারার খসে পড়েছে।

 

বৃষ্টির সময় ছাদ চুয়ে পানি পরে। এ অবস্থায় রোগীদের সঠিক ভাবে সেবা দিতে পারছে না সিএইচসিপিরা। ফলে বেস্তে যেতে বসেছে সরকারের স্বাস্থ্য সেবা। আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, ১৯৯৬ সালে আওয়ামীলীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর ১৯৯৯ সালে স্বাস্থ্য সেবা মানুষের দোর গোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার জন্য প্রতি ওয়ার্ডে ১টি করে আমতলী ও তালতলী উপজেলায় মোট ৪৪ টি কমিউনিটি ক্লিনিক স্থাপন করে।

 

এর মধ্যে ২০২১ সালে আমতলীতে ব্যাক্তির অনুদানে আরো দুটি কমিউনিটি কিলনিক নির্মানসহ মোট এর সংখ্যা দাড়ায় ৪৬টি। কমিউনিটি ক্লিনিক নির্মানের পর ২০০১ সালে বিএনপি জোট সরকার ক্ষমতায় এসে এর কার্যক্রম সম্পূর্ন বন্ধ করে দেয়।

 

২০০১ সাল থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত ৭ বছর ভবনে কোন কার্যক্রম পরিচালিত না হওয়ায় ভবনগুলো ধীরে ধীরে নষ্ট হয়ে যেতে থাকে। ২০০৯ সালে আওয়ামীলীগ সরকার ক্ষতায় এসে পুন:রায় কমিউনিটি ক্লিনিক চালু করলে এ ভবনগুলো কোন রকম ধুয়ে মুছে পরিস্কার করে কার্যক্রম চালু করা হয়।

 

এর মধ্যে অনেক ভবনে পলেস্তারার খসে পড়েছে, ভবনের গায়ে এবং ছাদে ফাটল ধরেছে। ছাদে ফাটল ধরায় অনেক ভবনের ছাদ চুয়ে পানি পড়ে। বর্ষা আসলে ভবনের ভিতরে বসে রোগী দেখা যায় না। পানিতে সারা ভবনের মেজ তলিয়ে যায়। সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, গুলিশাখালী ইউনিয়নের খেকুয়ানি বাজারের কমিউনিটি ক্লিনিকের ভবনটি ২০২০ সালে দেয়াল এবং বিমসহ ধসে পরে। ফলে তখন থেকেই এই ভবনটি আর ব্যবহার করা যাচ্ছে না।

 

স্বাস্থ্য সেবা অব্যাহ রাখতে নিরুপায় হয়ে সিএইচসিচি খেকুয়ানি বাজারের একটি ক্লাব ঘরে কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। স্থানীয় বাসিন্দা মনিরুল ইসলাম তালুকদার জানান, ২ বছর আগে খেকুয়ানি কমিউনিটি ক্লিনিক ভবনটি ধসে পড়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের স্বাস্থ্য সেবা ঠিক রাখতে আমরা খেকুয়ানি বাজারের একটি ক্লাব ঘরে সিএইচসিপিকে বসার ব্যবস্থা করে দিয়েছি। ভবন সংস্কারের অভাবে তালতলী উপজেলার লাউপাড়া কমিউনিটি ক্লিনিকের বেহাল দশা। দরজা জানালা খুলে পড়ে গেছে।

 

দেয়ালের গায়ে পলেস্তারার নেই। ছাদে ফাটল ধরায় বৃষ্টি আসলে অনবরত পানি পড়ে। বৃষ্টির পানিতে মেঝ তলিয়ে যায়। ফলে বাধ্য হয়ে ২ বছর ধরে সিএইচসিচি পাশ্ববর্তী লাউপাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বারান্দায় বসে রোগী দেখেন। সিএইসিচি আফরোজা অক্তার জানান, সংস্কারের অভাবে ক্লিনিকের ভবন ব্যাবহারের সম্পূর্ন অযোগ্য হয়ে পড়ায় বাধ্য হয়ে স্কুলের বারান্দায় বসে রোগী দেখি। এতে নানা বিরম্বনা পোহাতে হয়ে। একই অবস্থা জয়ালভাঙ্গা কমিউনিটি ক্লিনিকের।

 

ভবনটির ছাদে ফাটল দেখা দেওয়ায় বর্ষার সময় পানিতে তলিয়ে যায়। নিরুপায় হয়ে বৃষ্টি আসলে মাথায় ছাতা ধরে রোগীদের সেবা দিতে হয়। সিএইচ সিপি সুজন প্যাদা জানান, প্রায় ৩ বছর ধরে কমিউনিটি কিলনিকের বেহাল দশা। বর্ষার সময় রোগী দেখতে গিয়ে ছাদ চুয়ে পানি পড়ায় ভিজে যাই।

 

এভাবে আঠারগাছিয়া ইউনিয়নের গেড়াবুনিয়া, সোনাখালী, আরপাঙ্গাশিয়া ইউনিয়নের চরকগাছিয়া, ভায়লাবুনিয়া, তারিকাটা, হলদিয়া ইউনিয়নের হলদিয়া হাট, টেপুরা, চাওরা ইউনিয়নের চালিতাবুনিয়া, চন্দ্রা, কাউনিয়া, আমতলী সদর ইউনিয়নের কল্যানপুর, মানিকঝুড়ি, চলাভাঙ্গা, পশ্চিচিলা গুলিশাখালী ইউনিয়নের গোছখালী, কুকুয়া ইউনিয়নের চরখালী তালতলী উপজেলার বড়বগী ইউনিয়নের কাজির খাল, ছোটবগী ইউনিয়নের সরদারিয়া,শারিকখালী ইউনিয়নের কচুপাত্রাসহ আমতলী ও তালতলী উপজেলার ৪৬টি কমিউনিটি ক্লিনিকের মধ্যে ৪৩টি কমিউনিট ক্লিনিকের ভবন দীর্ঘ দিন ধরে সংস্কার না করায় ব্যাবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।

 

ভবনগুলো সংস্কারেরও কোন উদ্যোগ নেই কর্তৃপক্ষের। তালতলী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শাকিলা আক্তার বলেন, সংস্কারবিহীন কমিউনিটি কিলনিক ভবনগুলোর তালিকা করে বরগুনা সিভিল সার্জন কার্যালয়ে জমা দেওয়া হয়েছে।

 

আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা: আবদুল মুনয়েম সাদ জানান, আমতলী ও তালতলী উপজেলায় ৪৬টি কমিউনিটি ক্লিনিকের ভবন রয়েছে এর মধ্যে অধিকাংশ ভবন ব্যাবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। যে সকল কমিউনিটি ক্লিনিকের ভবন সম্পূর্ন ব্যাবহার অনুপযোগী হয়েছে সেগুলোর ভবন নতুন করে নির্মান এবং অন্য গুলো দ্রুত সংস্কারের জন্য প্রস্তাবনা দেওয়া হয়েছে।

 

বরগুনা জেলা সিভিল সার্জন ডা. মো. ফজলুল হক জানান, আমতলী এবং তালতলী উপজেলার কমিউনিটি ক্লিনিকের ভবনের অবস্থা খুবই খারাপ। এগুলো সংসকারের জন্য উর্ধতন কর্তৃপক্ষের নিকট তালিকা পাঠানো হয়েছে। যেগুলো সংস্কার করলে ঠিক হবে সেগুলো সংস্কার করা হবে। এবং যেগুলো নতুন ভাবে নির্মান করা প্রয়োজ সেগুলোর জন্য আলাদা প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দ পাওয়া গেলে কাজর্যক্রম শুরু করা হবে।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।