ঢাকাSunday , 22 May 2022
  1. অন্যান্য
  2. অর্থ ও বানিজ্য
  3. আন্তর্জাতিক
  4. ক্রাইম নিউজ
  5. খেলাধুলা
  6. গণমাধ্যম
  7. জাতীয়
  8. বিনোদন
  9. বিভাগের খবর
  10. রাজনীতি
  11. সর্বশেষ সংবাদ
  12. সারা বাংলা

বরগুনায় মুখোমুখি ট্রাক শ্রমিকদের দুই গ্রুপ, অনিদৃষ্টকালের কর্মবিরতি

Barishal RUPANTOR
May 22, 2022 5:14 pm
Link Copied!

নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল: দখল নিয়ে সংঘর্ষে শ্রমিক নেতাসহ তিনজন আহত হওয়ার ঘটনায় অনির্দিষ্টকালের জন্য কর্মবিরতি পালন করছেন বরগুনার ট্রাক শ্রমিকেরা। আজ রোববার সকাল থেকে তারা কর্মবিরতি পালন করছেন। এর আগে গতকাল শনিবার দুপুরে বরগুনার টাউন হল এলাকায় বেসিক ট্রেড ইউনিয়ন ও আন্তঃজেলা ট্রাক শ্রমিকদের দুটি গ্রুপ মুখোমুখি অবস্থান নিয়ে সংঘর্ষে জড়ায়।

এ সময় বেসিক ট্রেড ইউনিয়নের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জুলহাস মিয়াসহ তিন শ্রমিক আহত হন। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে লাঠিচার্জ করে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয় পুলিশ। ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন হয়েছে।

বরগুনা জেলা ট্রাক, ট্যংক লড়ি কাভার্ড ভ্যান ইউনিয়নে সাংগঠনিক সম্পাদক আল মামুন জানান, শনিবার বেলা ১১টার দিকে ট্রাক শ্রমিকদের নেতা আতিকুর রহমান জুলহাস টাউনহল এলাকায় তাঁর ব্যক্তিগত ট্রান্সপোর্ট অফিসে বসে কাজ করছিলেন।

এ সময় বরগুনা আন্তজেলা ট্রাকশ্রমিক ইউনিয়নের সাংগঠনিক সম্পাদক মঞ্জুরুল আলম জনের নেতৃত্বে মো. বশির উদ্দীন, আবদুল হালিম মোল্লা, রুহুল আমিনসহ ২০/২৫ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে জুলহাসের অফিসে ঢুকে হামলা চালিয়ে তাঁকে আহত করেন।

এ সময় তাঁরা জসীম উদ্দীন, মো. মাহফুজ, মিলন ও আবদুর রহমানকেও মারধর করে। হামলায় আহত জুলহাসকে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রন করে।

আজ রোববার বেলা ১টার দিকে টাউনহল এলাকায় ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, উভয়ের পক্ষের শ্রমিকেরা সড়ক ছেড়ে দিয়ে সড়কের পাশে মুখোমুখি অবস্থান নেন। দুপুর ২টার দিকে ফের উভয় পক্ষের শ্রমিকেরা সংঘর্ষের জড়িয়ে গেলে ফের পুলিশ লাঠিচার্জ করে উভয় পক্ষকে ছত্রভঙ্গ করে দেয়।

ট্রাক শ্রসিক নেতা জসীম উদ্দীন বলেন, ‘জুলহাসকে মারধরের প্রতিবাদে রোববার সকাল থেকে আমরা অনিদৃষ্ট কর্মবিরতি পালন করছি। কর্মসূচির অংশ হিসেবে টাউনহল এলাকায় সড়কে অবস্থান নিয়েছিলাম।

দুপুরের দিকে বরগুনা আন্তজেলা ট্রাকশ্রমিক ইউনিয়নের সাংগঠনিক সম্পাদক মঞ্জুরুল আলম জনের সমর্থক শ্রমিকেরা আমাদের এখানে এসে আবারো হামলা চালানোর চেষ্টা করে। এ সময় পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে আমাদের শ্রমিকদের সড়ক থেকে সড়িয়ে দেয়। এ নিয়ে শ্রমিক পুলিশের সঙ্গে আমাদের তর্ক হয় এবং একপর্যায়ে পুলিশ লাঠিচার্জ করে আমাদের উঠিয়ে দেয়।’

বরগুনা আন্তজেলা ট্রাকশ্রমিক ইউনিয়নের কার্যকরী সদস্য আব্দুল হালিম মোল্লা বলেন, বেশ কয়েকবছর ধরে আন্তঃজেলা ট্রাক শ্রমিক ইউনিয়ন নামে ট্রাক শ্রমিকদের একটি সংগঠনটির নেতৃত্ব দিয়ে আসছিলেন। উপজেলা চেয়ারম্যান মনিরুল ইসলাম গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে বরিশাল থেকে বেসিক ট্রেড ইউনিয়ন বরগুনা জেলা শাখার নামে একটি সংগঠন নিয়ে আসেন। ওই সংগঠনের সভাপতি হিসেবে তিনি আন্তজেলা ট্রাকশ্রমিক ইউনিয়ন অফিস দখলে নেন।

গত ১৪ এপ্রিল বুধবার গভীর রাতে বরগুনা সদর উপজেলার চেয়ারম্যান মনিরুল ইসলামের নেতৃত্বে একদল দুর্বৃত্ত টাউনহল মোড়ে আন্তজেলা ট্রাকশ্রমিক ইউনিয়নের অফিস কার্যালয়ের ভাঙচুর করে ভেতরের আসবাবপত্র লুট করে। পরের দিন ১৫ এপ্রিল দুপুরে সাংগঠনিক সম্পাদক মনজুরুল আলম জনের নেতৃত্বে শতাধিক শ্রমিক টাউনহল অবস্থান নিয়ে আন্তজেলা ট্রাকশ্রমিক ইউয়িনের কার্যালয়টি নিজেরা নিয়ন্ত্রণ নেয়।

বেসিক ট্রেড ইউনিয়নের সভাপতি ও সদর উপজেলা চেয়ারম্যান মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘গত বছরের শুরুর দিকে আন্তজেলা ট্রাকশ্রমিক ইউনিয়নের চাঁদাবাজিতে অতিষ্ঠ হয়ে আমার কাছে আসে। আমি শ্রমিকদের স্বার্থে বেসিক ট্রেড ইউনিয়নের দায়িত্ব নিয়ে শ্রমিকদের সংগঠিত করে চাঁদা থেকে রক্ষা করেছি।

গত এক বছর শ্রমিকেরা স্বস্তিতে ছিল। কিছুদিন আগে মনজুরুল আলম জনের নেতৃত্বে একদল বহিরাগত সন্ত্রাসী আমাদের বেসিক ট্রেড ইউনিয়নের অফিস ভাঙচুর করে দখলে নেয়। শ্রমিকেরা তাঁদের নেতৃত্ব মানতে চাইছে না। কারণ তাঁরা সংগঠন ব্যবহার করে ব্যপক চাঁদাবাজি করে।

তাঁদের নেতৃত্ব না মানায় শনিবার আতিকুর রহমান জুলহাসসহ বেশ কয়েকজন শ্রমিককে জন বাহিনী হামলা চালিয়ে আহত করে। এর প্রতিবাদে রোববার শ্রমিকেরা কাজ বন্ধ রেখে অবস্থান কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। কিন্ত সেখানে জন লোকজন নিয়ে হামলা চালিয়েছে। আমরা এই দন্দের অবসানে স্থানীয় নেতা ও পুলিশ প্রশাসনের নিরপেক্ষ হস্তক্ষেপ কামনা করি।’

বরগুনা আন্তজেলা ট্রাকশ্রমিক ইউনিয়নের সাংগঠনিক সম্পাদক মনজুরুল আলম জন বলেন, ‘আমার বাবা রইসুল আলম রিপনের নেতৃত্বে সারা দেশের মতো বরগুনায়ও আন্তজেলা ট্রাকশ্রমিক ইউনিয়ন শ্রমিকদের কল্যাণে কাজ করছিলেন।

হঠাৎ বেসিক ট্রেড ইউনিয়নের নামে একটি সংগঠন আমাদের কার্যালয় দখলে নিয়ে চাঁদাবাজি শুরু করে। আমরা বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানিয়ে শ্রমিকদের নিয়ে আমাদের অফিস দখলে নেই। কিন্ত গত শনিবার আবার মনিরুল ইসলামের সমর্থকেরা আমাদের অফিস দখল নেওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় শ্রমিকেরা বাঁধা দিতে গেলে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।’

বরগুনার পুলিশ সুপার মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর মল্লিক বলেন, ‘শ্রমিকদের দুটি গ্রুপের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট দন্দে মুখোমুখি অবস্থান নিয়েছিল। শ্রমিকদের দুটি গ্রুপে যাতে কোনোভাবে সংঘর্ষে জড়াতে না পারে সে কারণে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পরিস্থিতি এখন পুলিশের নিয়ন্ত্রণে আছে।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।