ঢাকাFriday , 13 May 2022
  1. অন্যান্য
  2. অর্থ ও বানিজ্য
  3. আন্তর্জাতিক
  4. ক্রাইম নিউজ
  5. খেলাধুলা
  6. গণমাধ্যম
  7. জাতীয়
  8. বিনোদন
  9. বিভাগের খবর
  10. রাজনীতি
  11. সর্বশেষ সংবাদ
  12. সারা বাংলা
আজকের সর্বশেষ সবখবর

কৃষ্ণচূড়ার রঙে সেজেছে সড়ক, যেন এক সেলফি স্পট

Barishal RUPANTOR
May 13, 2022 12:34 am
Link Copied!

নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল: প্রকৃতিতে শুরু হয়েছে গ্রীষ্মের তাণ্ডব। গাছে গাছে ফুটছে ফুল আর আমগাছে এসেছে মুকুল। চারপাশটা যেন ফুলে ফুলে ভরে গেছে। তবে সব ফুল যে কৃষ্ণচূড়ার মতো নজর কাড়তে পারছে না। রাস্তার মোড়ে মোড়ে কৃষ্ণচূড়ার মনকাড়া সৌন্দর্য। সবুজ চিকন পাতা। ফাঁকে লাল লাল কৃষ্ণচূড়া ফুল।

 

দেখলেই চোখ জুড়িয়ে যায়। কৃষ্ণচূড়ার লাল, কমলা, হলুদ ফুল এবং উজ্জ্বল সবুজ পাতা এক অন্যরকম দৃষ্টিনন্দন শোভা। ঠিক এমনি প্রকৃতি অপরূপ লাল টুকটুকে কৃষ্ণচূড়ার ফুলের সাজে সাজিয়ে তুলেছে চট্টগ্রাম আনোয়ারা উপজেলায় সিইউএফএল রাঙ্গাদিয়া সড়ক।

 

লাল-হলুদ কৃষ্ণচূড়ার সুবাস ও সৌন্দর্যের মুখরিত দর্শনার্থীদের নতুন আকর্ষণ এখন এই সড়ক। এখানে এসে সবাই স্মৃতি ধরে রাখতে সেলফি তুলতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। সরেজমিন দেখা যায়, উপজেলার রাঙ্গাদিয়ায় অবস্থিত রাষ্ট্রীয় সার কারখানা চিটাগাং ইউরিয়া ফার্টিলাইজার লিমিটেড (সিইউএফএল) সড়কের এক কিলোমিটারজুড়ে সড়কের এক পাশে বেড়ে উঠেছে কৃষ্ণচূড়া ফুলের গাছ।

 

গাছের ডালে ডালে কচি কচি সবুজ পাতার সমারোহ। এরই মধ্যে কৃষ্ণচূড়ার রক্তিম আভা। লাল-সবুজে একাকার হয়ে জায়গাটা যেন আরও অপরূপ সাজে সেজেছে। এই অপরূপ রূপে মোহিত হয়ে সব শ্রেণির ভ্রমণপিপাসুরা দূর-দূরান্ত থেকে বাইক, সিএনজি, মাইক্রোবাস নিয়ে আসছেন কৃষ্ণচূড়ার সৌন্দর্য উপভোগ করতে।

 

অনেকেই শাড়ি আর পাঞ্জাবি পড়ে রিকশায় করে ঘুরছেন এ রাস্তায়। এছাড়াও কৃষ্ণচূড়ার ফুলের সৌন্দর্য মুগ্ধ হয়ে সেলফিতে মেতে উঠছেন সবাই। দেখে মনে হয় এ যেন এক সেলফি স্পট।

 

এখানে ঘুরতে আসা আব্দুর রহমান নামের এক যুবক বলেন, কয়েক সপ্তাহ ধরে সিইউএফএল রাঙ্গাদিয়া লাল কৃষ্ণচূড়ার ফুলের সৌন্দর্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেখছি। তাই নিজের চোখে কৃষ্ণচূড়ার ফুলের সৌন্দর্য দেখার লোভটা সামলাতে পারলাম না।

 

সানজিদা তাবাসসুম নামের আরেক দর্শনার্থী বলেন, আমরা একটু পাশেই থাকি। প্রায়ই বিকালে এ রাস্তা দিয়ে রিকশায় করে ঘুরতে ভালো লাগে। আজ বড় আপুকে নিয়ে আসলাম।

 

দুই মেয়ে আর স্ত্রীকে নিয়ে ঘুরতে আসা ইয়ার মুহাম্মদ বলেন, ফুরফুরে বাতাস আর কৃষ্ণচূড়ার সৌন্দর্য খুবই ভালো লাগছে। মেয়ে দুটি খুবই মজা করছে। আসলেই প্রকৃতির রূপ সৌন্দর্য বর্ণনা করা অসম্ভব।

 

জানা যায়, কৃষ্ণচূড়ার আদি নিবাস পূর্ব আফ্রিকার মাদাগাস্কার। এই বৃক্ষ শুষ্ক ও লবণাক্ত অবস্থা সহ্য করতে পারে। ক্যারাবিয়ান অঞ্চল, আফ্রিকা, হংকং, তাইওয়ান, দক্ষিণ চীন, বাংলাদেশ, ভারতসহ বিশ্বের অনেক দেশে এটি জন্মে।

 

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে কৃষ্ণচূড়া শুধুমাত্র দক্ষিণ ফ্লোরিডা, দক্ষিণ-পশ্চিম ফ্লোরিডা, টেক্সাসের রিও গ্রান্ড উপত্যকায় পাওয়া যায়। বাঙালির কবিতা, সাহিত্য, গান ও বিভিন্ন উপমায় কৃষ্ণচূড়া ফুলের কথা নানা ভঙ্গিমায় এসেছে। শোভা বর্ধনকারী এ বৃক্ষটি দেশের গ্রাম-বাংলার পাশাপাশি এখনও তার নড়বড়ে অস্তিত্ব নিয়ে কোনোক্রমে টিকে আছে শহরের পথে-প্রান্তরে।

 

বিদেশ থেকে আমদানিকৃত এই ফুল যেন এখন বাঙালির ঐতিহ্যেরই একটা অংশ হয়ে গিয়েছে সবার অজান্তেই। এ দেশে এসে পরিচিত হয়েছে নতুন নামে। অনেকেই মনে করেন যে, রাধা ও কৃষ্ণের নাম মিলিয়ে এই ফুলের নাম হয়েছে কৃষ্ণচূড়া।

 

এর সবচেয়ে বড় খ্যাতি হচ্ছে মোহনীয় রক্তিম আভা। সবুজের বুকচিরে বের হয়ে আসা লাল ফুল এতোটাই মোহনীয় যে, পথচারীরাও থমকে দাঁড়াতে বাধ্য হন। প্রকৃতিকে রক্তিমতায় মাতিয়ে রাখা এই বৃক্ষের উচ্চতা তেমন একটা বেশি হয় না। সর্বোচ্চ ১২ মিটার পর্যন্ত উপরে উঠলেও তার শাখা প্রশাখা বিশাল এলাকাজুড়ে বিস্তৃত থাকে।

 

গ্রীষ্মজুড়ে প্রকৃতিকে মাতিয়ে রাখলেও অন্যান্য সময়গুলোতে এ বৃক্ষের উপস্থিতি খুব একটা চোখে পড়ে না। অনেকটা আড়ালেই থেকে যায় বাকিটা সময়।এপ্রিলে গ্রীষ্মের শুরুর সঙ্গে সঙ্গেই প্রকৃতির সবুজ পেছনে ফেলে বেরিয়ে আসতে থাকে লাল রঙের কৃষ্ণচূড়া ফুল।

 

মানুষের দৃষ্টিগোচর হতে থাকে তার সৌন্দর্য। তখন আর আলাদা করে তার খোঁজ নেওয়ার দরকার হয় না। প্রকৃতিকে অপরূপ সাজে সাজিয়ে রঙিন করে তুলেছে।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।